জেনে নেওয়া যাক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতিক্রিয়া
প্রকাশ : 2026-01-31 12:00:35১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩। এক প্রজ্ঞাপনে ২৮ বিভাগে ৩০ চলচ্চিত্র, শিল্পী ও কলাকুশলীর নাম ঘোষণা করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। জেনে নেওয়া যাক গুরুত্বপূর্ণ সাত বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতিক্রিয়া।
মিশ্র অনুভূতি। এখন মনে হচ্ছে অবিশ্বাস্য, আবার এখনই নিজেকে সুখের সর্বোচ্চ শিখরে অনুভূত হচ্ছে। এখনো একটা ঘোরের মধ্যে আছি, মাত্রই তো ঘোষণা হলো। কদিন পর আসলে প্রকৃত অনুভূতিটা বলতে পারব। তবে আমার থেকেও বেশি আপ্লুত হয়েছেন আমার কাছের মানুষজন। আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, মিডিয়া কলিগ থেকে আমার দর্শক। এ পুরস্কার তো তাঁদের প্রাপ্য। আমার প্রতি তাঁদের একটা বিশ্বাস ছিল, এটাই তো আমাকে সামনে চলতে সহায়তা করেছে। স্বীকৃতির জন্য কাজ না করলেও এটা ভালো কাজ করার রসদ জোগায়। আর তা যদি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হয়, তাহলে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।
আইনুন পুতুল, সেরা অভিনেত্রী
খবরটা শোনার পর বিশ্বাস করতে পারছি না। মনে হচ্ছে, স্বপ্নের মধ্যে আছি। বাবাকে খুব মিস করছিলাম। উনি থাকলে খুব খুশি হতেন। আমার ভাই দেশের বাইরে। মা খবরটা শুনে খুশি হয়েছেন। ‘সাঁতাও’ সিনেমার জন্য বহু মানুষ কষ্ট করেছেন। সিনেমার নির্মাতা খন্দকার সুমন ভাই আমাকে চরিত্রটির জন্য ভেবেছেন। সিনেমার টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রাপ্তিটা ওনাদের। ওনারা না থাকলে চরিত্রটা করতে পারতাম না।
খন্দকার সুমন, সেরা নির্মাতা
জাতীয়ভাবে ‘সাঁতাও’-এর এই স্বীকৃতি মানুষকে আবারও সেই দিকে মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে। আমার নির্মোহ সেই স্বল্প চাওয়াটা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এর জুরিবোর্ডের কাছে মূল্যায়িত হয়েছে বলে আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ আমার সেই ১৫৫৯ জন সমর্থকের কাছে; যাঁরা আরও আট বছর আগে বিশ্বাস করেছিলেন ‘সাঁতাও’ আমাদের চলচ্চিত্র। কৃতজ্ঞতা জানাই সব কলাকুশলীকে, যাঁরা আমার মতো একজন অর্বাচীন নির্মাতার কথা বিশ্বাস করে শীত, গ্রীষ্ম আর বর্ষা উপেক্ষা করে মেধা এবং শ্রম দিয়ে কাগজে লেখা একটি স্বপ্নকে চলমান চিত্রে রূপায়িত করেছেন।
বালাম, সেরা গায়ক
নিঃসন্দেহে খুবই ভালো লাগছে। ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার গানটি ওই বছরের দারুণ শ্রোতাপ্রিয় একটি গান ছিল; গ্লোবাল টপ চার্টেও জায়গা করে নেয়। এই গানের জন্য সহশিল্পী কোনাল, প্রিয়তমা সিনেমার পরিচালক হিমেল আশরাফ, নায়ক শাকিব খান, প্রযোজক আরশাদ আদনানসহ পুরো টিমের প্রতি আমার ভালোবাসা ও অভিনন্দন। সবচেয়ে বড় কথা হলো—দেশ–বিদেশের শ্রোতাদের কাছ থেকে গানটি যে এত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, সম্ভবত সে কারণেই এই পুরস্কার এসেছে। একই সঙ্গে আমার সংগীতজীবনের দীর্ঘ যাত্রার একটি স্বীকৃতি হিসেবেও আমি এটাকে দেখছি। এটা অবশ্যই একটি সুন্দর অনুভূতি। আমার পরিবারের সবাই খুব খুশি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তো একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি—এটা পাওয়ায় মা, স্ত্রী ও ছেলে সবাই আনন্দিত। সহকর্মীদের অনেকেই ফোন ও টেক্সট করে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আমার এই প্রাপ্তিতে তাঁদের আনন্দ আর আমার খুশিতে তাঁদের আনন্দ—সব মিলিয়ে অনুভূতিটা সত্যিই অনেক ভালো লাগার।
অবন্তী সিঁথি, সেরা গায়িকা
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের প্রজ্ঞাপনে সেরা গায়িকা বিভাগে আমার নাম দেখে চমকে গেছি। এমনটা তো শুধু স্বপ্নেই ভাবতাম—সেটাই কীভাবে সত্যি হলো! রাষ্ট্রীয় সম্মাননা যেকোনো মানুষের কাছেই কাঙ্ক্ষিত। শিল্পী হিসেবে এই স্বীকৃতি আমার সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। যাঁরা আমাকে এই সম্মাননার যোগ্য মনে করেছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই গানের স্রষ্টা তানজীব সরোয়ার, সুরকার সাজিদ সরকারসহ ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার সংশ্লিষ্ট সব কলাকুশলীকে ধন্যবাদ—এই গানের সঙ্গে আমাকে যুক্ত করার জন্য। বাবা–মা বেঁচে থাকলে আজ খুব খুশি হতেন। পরিশেষে আমার সব অনুরাগী, শ্রোতা ও শুভানুধ্যায়ীর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই—তাঁদের অনুপ্রেরণা আর ভালোবাসাতেই আমি অবন্তী সিঁথি।
ইমন চৌধুরী, সেরা সংগীত পরিচালক
এর আগের পুরস্কারের সময় কিছুটা আঁচ পেয়েছিলাম, অনেকেই বলছিলেন পেতে পারি। তবে এবার ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তিন-চার বছর আগের কাজ, পুরস্কারও দেরি হচ্ছিল, তাই আশাবাদী ছিলাম না তেমন। তাই এবারের পুরস্কারটা আমার কাছে বিশেষ। এ সিনেমায় যাঁরা আমার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এ পুরস্কার টিমের প্রত্যেকের।
মো. লিয়ন, সেরা শিশুশিল্পী
মামার (আম কাঁঠালের ছুটি সিনেমার নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান) কাছ থেকে খবরটা শুনলাম গতকাল (পরশু)। আমার খুব ভালো লাগছে। এটাই আমার জীবনের প্রথম সিনেমা, এরপর আর কোনো কাজ করিনি। ২০১৬ সালের দিকে টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় যুবরাজ শামীম (আম কাঁঠালের ছুটি সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর) মামার স্কুলে পড়তাম। সেখান থেকে সিনেমাটিতে কাজের সুযোগ পাই।