জামালপুর সদরের ঝাওলা গোপালপুরে হামলায় একজন নিহত

প্রকাশ : 2026-04-02 16:41:29১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

জামালপুর সদরের ঝাওলা গোপালপুরে হামলায় একজন নিহত

জামালপুর সদর উপজেলার ৮নং বাঁশচড়া ইউনিয়নের ঝাওলা গোপালপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলায় আবদুল হাকিম (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ছেলের শ্বশুরসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আবদুল হাকিম সদর উপজেলার একই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ে । ছেলে মোহাম্মদ শামীম মিয়া ময়মনসিংহের ভালুকা মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সেখানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।

পুলিশ ও নিহত আবদুল হাকিমের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে সদর উপজেলার নরুন্দি ইউনিয়নের কোচনধরা এলাকার কাদিউর রহমানের মেয়ে কামরুন নাহারের সঙ্গে শামীম মিয়ার বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টির মীমাংসার লক্ষ্যে বুধবার রাতে আবদুল হাকিমের বাড়িতে দুইপক্ষের লোকজন নিয়ে সালিস বসে। এ বৈঠকের একপর্যায়ে  উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং কথা–কাটাকাটি হয়। ওই সময় শামীমের শ্বশুর ও তাঁর স্বজনেরা আবদুল হাকিমকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয় বাসিন্দারা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করে। আবদুল হাকিমের ভাতিজা নয়ন মিয়া বলেন, গত মাসে একাধিকবার স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের দাম্পত্য কলহ হয়। ঈদের আগের দিন শামীম গ্রামের বাড়িতে এলেও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার মাঝপথ থেকে বাবার বাড়িতে চলে যান। ঈদের পর কর্মস্থলে ফিরে গেলে সেখানে তাঁদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। ঈদের সময় মা-বাবা ও বোনের জন্য কেনাকাটা করায় শামীমের সঙ্গে মূলত এই বিরোধ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে স্ত্রীকে আবার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন শামীম। পরে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে খবর দিয়ে লোকজন ডেকে আনেন। হামলার বিষয়ে নয়ন মিয়া বলেন, ‘শামীমের শ্বশুরবাড়ি থেকে ১০-১২ জন লোক আমাদের বাড়িতে আসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাচা, চাচি ও চাচাতো বোনের ওপর হামলা চালান তারা। এতে গুরুতর আহত হয়ে চাচা আবদুল হাকিম মারা যান।’ 

এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য আবদুল হাকিমের মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।