জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের কর্মযজ্ঞ, সময় ব্যবস্থাপনা চূড়ান্তের লক্ষ্য ইসির

প্রকাশ : 2025-11-29 12:06:33১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের কর্মযজ্ঞ, সময় ব্যবস্থাপনা চূড়ান্তের লক্ষ্য ইসির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাস্তব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে ‘মক ভোটিং’ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই মহড়ার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার সময় ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ (শনিবার) সকাল ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের এই মক ভোটিং। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে ভোটের ফলাফল পর্যন্ত যাবতীয় কাজের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের বাইরে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যরা। কেন্দ্রের ভেতরে নারী ও পুরুষ ভোটারদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা দেখা যায়। নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ৫০০ জন ভোটার আজ ভোট দেবেন। সিনিয়র ভোটার, বস্তিবাসী, শিক্ষার্থী, হিজড়া, প্রতিবন্ধী এবং নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) প্রকল্পের ভোটাররা এতে অংশ নেন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

সকাল ৮টায় ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ইসির সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, তাই পুরো প্রক্রিয়া আরও দক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমরা আগেই অভিজ্ঞতা ঝালাই করে নিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এই মক ভোটিংয়ের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভোট কক্ষের সংখ্যা বাড়ানো লাগবে কি না, কোথাও সমন্বয়ের প্রয়োজন কি না, ভোটকক্ষ ও জনবল বাড়বে কি না—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একজন নারী-ভোটার ভোট দেওয়ার পর জানান, সংসদ নির্বাচনের জন্য তাকে সাদা ব্যালটে কালো মার্কা ব্যবহার করতে হয়েছে। অন্যদিকে, গণভোটের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার, যেখানে টিক চিহ্ন ও ক্রস চিহ্ন দিয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। নির্ধারিত সিল দিয়ে ভোট দিতে তার মোট এক মিনিট সময় লেগেছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, আধাবেলা ভোট হলেও ভোট দিতে কত সময় লাগে এবং ব্যবস্থাপনায় কী কী ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

মক ভোটিংয়ের সময় কেন্দ্রে মোতায়েন ছিল পুলিশ, আনসার, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিল পুলিশ। এ ছাড়া সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য কিউআর (কুইক রেসপন্স) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। 

নাসির উদ্দিন কমিশন গত বছর নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম নির্বাচন মহড়া।