জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ব্রাজিলের সমর্থন, ব্রিকস সদস্যপদে মিলল ইতিবাচক আশ্বাস

প্রকাশ : 2026-05-16 10:29:49১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ব্রাজিলের সমর্থন, ব্রিকস সদস্যপদে মিলল ইতিবাচক আশ্বাস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে ব্রাজিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে ব্রিকস জোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।

শুক্রবার (১৫ মে) ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়াতে দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ঐতিহাসিক পালাসিও দো প্লানালতোতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং গ্লোবাল সাউথের ঐক্য জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতেই সেলসো আমোরিম বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব ও জনগণকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাউথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রশংসা করেন।

আলোচনায় দুই দেশ ৫৩ বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করে। এ সময় হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিচ্ছে।

বৈঠকে সেলসো আমোরিম ‘টেট-অ্যা-টেট স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম’ গঠনের প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংলাপের একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হুমায়ুন কবির এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের অন্যতম বড় অর্জন ছিল ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি ব্রাজিলের সমর্থন। আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ সাইপ্রাসের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

সেলসো আমোরিম বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতার প্রতি অঙ্গীকারের কারণেই ব্রাজিল এ সমর্থন দিচ্ছে।”

জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, “বাংলাদেশের প্রার্থিতা ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’ এই নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা জরুরি।”

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়। তবে সম্ভাবনার তুলনায় এটি এখনও সীমিত বলেও মত দেন দুই পক্ষ।

হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে তুলা, সয়াবিন, চিনি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি করে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও সিরামিক রপ্তানিতে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে ব্রিকস সদস্যপদ লাভে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। জবাবে সেলসো আমোরিম বলেন, বিষয়টি প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।

এছাড়া নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) ঢাকায় একটি শাখা স্থাপনের প্রস্তাবও তুলে ধরে বাংলাদেশ। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে কৃষি, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক বাংলাদেশ-ব্রাজিল সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।