চট্টগ্রাম বন্দরে আজও অচলাবস্থা, জরুরি সভা ডেকেছে কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : 2026-02-05 11:45:06১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

চট্টগ্রাম বন্দরে আজও অচলাবস্থা, জরুরি সভা ডেকেছে কর্তৃপক্ষ

 

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আজ বৃহস্পতিবারও (৫ ফেব্রুয়ারি) চলছে। বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির কারণে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ জরুরি সভা ডেকেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। সভায় সংশ্লিষ্ট সব দফতরের কর্মকর্তা, নিরাপত্তা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শ্রমিক প্রতিনিধি ও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়েছে, বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, পণ্য খালাস-লোডিং কার্যক্রমে স্থবিরতা নিরসন এবং চলমান অস্থিরতা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা এ কর্মবিরতির কারণে বিভিন্ন জেটিতে অবস্থানরত জাহাজ থেকে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানো-নামানোসহ সব ধরনের কাজ বন্ধ আছে। এমনকি বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়া, অফডক থেকে কনটেইনার আনা-নেওয়া এবং বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, সরকার যতক্ষণ এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে আসবে না ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে।

এনসিটির ইজারা ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে। সোমবার কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেন তারা। মঙ্গলবার পুনরায় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন।

শনিবার প্রথম দিন কর্মবিরতির পর বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী চার জনকে তাৎক্ষণিক বদলি করে। একদিনে কর্মবিরতিতে রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটিও করে তারা। রবিবার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও ১২ জনকে বদলি করা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্দোলনরত আরও ১৫ কর্মচারীকে নতুন করে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এ বদলির কথা জানানো হয়।

কা/আ