কাউনিয়ায় বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ, বন ও কৃষি বিভাগ উদাসিন

প্রকাশ : 2025-09-06 21:58:48১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

কাউনিয়ায় বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ, বন ও কৃষি বিভাগ উদাসিন

পরিবেশ ও গ্রামীন ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, নগরায়নের আগ্রাসন, পুরোনো গাছের রোগ ও অযত্ন, নতুন করে গাছ লাগানোর প্রতি অনাগ্রহ, সচেতনতার অভাবে খেজুর গাছ রংপুরের কাউনিয়ার জনপদ থেকে দিনদিন হারিয়ে যেতে বসেছে। ঐতিহ্যবাহী গাছের মধ্যে খেজুর গাছ ছিল অন্যতম। বন ও কৃষি বিভাগের উদাসিনতা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে খেজুর গাছ কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ।

সরেজমিনে গ্রামীণ জনপদ ঘুরে দেখে গেছে রাস্তার ধারে ও বসতভিটার আঙ্গিনায় আগের মতো খেজুর গাছ নেই। ৬টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা ও ৮৫টি গ্রাম নিয়ে কাউনিয়া উপজেলা। এক সময় গ্রামীণ মেঠো পথের দুই পাশেই চোখ বুলালেই দেখা যেত সারি সারি খেজুর গাছ। বর্তমানে এমন দৃশ্য শুধুই স্বপ্ন। খেজুরের গুড় ও রস ছিল সর্বজন সমাদৃত। শীতের আগমনে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো। ব্যাংকার নুর আমিন জানান, গ্রামীণ মেঠোপথে খেজুর গাছের সারি, গাছে রসের হাঁড়ি আর দেখা মিলে না। দেখা মিলে না পাখি আর কীট-পতঙ্গের গাছে গাছে ঘুরে রস খাওয়ার দৃশ্য। খেজুরের রস ও খেজুরের মিঠা (রাভ মিঠা) গন্ধে গ্রামীণ জনপদ মৌ মৌ করত। শীত আসলেই গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়ত খেজুর গাছ পরিষ্কারের কাজে। গাছিরা এই সময় অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতেন। গ্রামীণ জনপদে খেজুর রসের পায়েস পিঠার উৎসব, গভীর রাতে হাঁড়ি থেকে চুরি করে রস খাওয়া শৈশবের স্মৃতি অম্লান হয়ে আছে আজো। কালের বিবর্তনে এই জনপদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ ও রস। গ্রামে স্বজনদের নিয়ে অতিআনন্দে পায়েশ ও দুধ চিতই পরিবেশন করতো। এখন তা শুধুই স্মৃতি। রাজিব গ্রামের বিজয় চন্দ্র জানান, ঐতিহ্যবাহী খেঁজুর রসের উৎপাদন বাড়াতে হলে টিকিয়ে রাখতে হবে খেজুর গাছ। সে জন্য সঠিক ভাবে পরিবেশ আইনের  প্রয়োগ করতে হবে। প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহকারী গাছি রহমত জানান, আগের মতো খেজুর গাছ না থাকায় এখন সেই রমরমা অবস্থা নেই। শুধু শীত আসলেই অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রামের খেজুর গাছের কদর বাড়ে। খেজুর গাছ রক্ষায় বন বিভাগ, কৃষিবিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে খেজুর গাছ আর শীত মৌসুমে খেজুর রস শুধু গল্পে পরিনত হতে চলেছে। গদাই গ্রামের গফুর আলী জানান, শীতে গ্রামে খেজুর রস বিক্রি করতে নানা বয়সের লোক দেখা যেত। এখন আগের মতো গাছও নেই গাছি ও রস বিক্রেতাদের দেখা যায়না। বিভিন্ন দুর্যোগ ও দিন দিন বসতি স্থাপনের কারনে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাংলায় খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে গাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ হয় না। বন বিভাগ ও কৃষি বিভাগ খেজুর গাছের চাষ বা কৃষি মেলায় খেজুরের গাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করতে দেখা যায় না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, আমরা খেজুর গাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করি, ব্যাপকভাবে প্রচার বা বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই অমাদের বিভাগের পক্ষ থেকে। জনগণ সচেতন হলে প্রাচীন ঐতিহ্য এ খেঁজুর গাছের মাঝে অতীতের অস্তিত্বও টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। বন বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে।