কাউনিয়ায় টানা বৃষ্টি, তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি, উর্তি ফসলের ক্ষতির শঙ্কা
প্রকাশ : 2026-04-28 16:56:02১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় টানা তিনদিনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। তিস্তা নদীর পানি দ্রæত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের উর্তি ফসল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ধান, পিয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি শুরু হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জানা গেছে, বেশ কিছুদিনের ভ্যাপসা গরমের পর গত শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। কখনও মেঘের গর্জনসহ ভারী বর্ষণ, আবার কখনও থেমে থেমে বৃষ্টিতে উপজেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে তিস্তা নদী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে একদিকে মৎস্য শিকারীরা মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকলেও অন্যদিকে চরের কৃষকরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। মিষ্টি কুমড়া, লাউ, পিয়াজ, রসুন, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া দোলার ধানের জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সুষ্টি হয়েছে, যা ফসলের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে ধান, পিয়াজ, মরিচ ও রসুনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ডালিয়া বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গেজ রিডার নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামীতে নদীর পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে, যা সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করতে পারে। কাউনিয়ার ঢুসমারা চরের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের জমিতে পিয়াজ, রসুন, ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, বোরো ধান ও বিভিন্ন শাক-সবজি রয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন চললে এসব ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, চরের জমিতে পাকা ধান দ্রæত কেটে ফেলা এবং পিয়াজ-রসুন তুলে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।