কাউনিয়ায় কালের প্রবাহে হারিয়ে যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দর পেশা
প্রকাশ : 2026-01-25 17:34:11১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
রংপুরের কাউনিয়ায় আধুনিকায়ন ও উন্নত সেলুন এবং প্রযুক্তির বিকাশে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দর পেশা হারিয়ে যাচ্ছে। বাহারি রঙ্গ ও স্টাইলের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে হাটবাজার ও বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভ্রাম্যমাণ সেলুন গুলো।
সরেজমিনে উপজেলায় বিভিন্ন হাট গ্রাম ঘুরে জানান গেছে একটা সময় ছিল, যখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে, বিভিন্ন হাট বাজারে চুল-দাড়ি কাটতেন অসংখ্য নরসুন্দর কর্মী, এখন তেমন একটা দেখা মিলেনা সেই নরসুন্দর কর্মীদের। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন নরসুন্দর কর্মীরা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় জীবনের গতিধারায় পরিবর্তন ও নতুনত্বের কারণে এখন সর্বত্রই গড়ে উঠেছে জেন্টস পার্লার বা আধুনিক সেলুন। এখন হাটে তেমন দেখা মেলে না—পিঁড়ি কিংবা টুলে বা ইটের উপর বসে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের সুনিপুণ হাতে চুল ও দাড়ি কাটার সেই দৃশ্য নেই। অনেক পেশার মতো নরসুন্দরের পেশাটিও বদলে যাচ্ছে। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি আধুনিকতার ছোঁয়ায় হাটে পিড়িতে বসে মানুষ আর চুল-দাড়ি কাটতে চায় না। এছারা সেলুন গুলোতে উন্নত প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে গ্রামীন ঐতিহ্যগত চুলকাটার কারিগরদের খুব কমই দেখা যায় হাটে-ঘাটে, চর ও গ্রামাঞ্চলে। অনেকেই পিড়িঁতে বসে চুল কাটতে লজ্জাবোধ করেন, অথচ ছোট বেলায় বাবার হাত ধরে কে না গিয়েছে নিকটতম হাটে পিড়িঁতে বসে চুল কাটতে। আবার কিছু ছিল গ্রামে গ্রামে গৃহস্থ বাড়িতে গিয়ে চুল-দাড়ি কাটতো এবং মৌসুমে মৌসুমে তার বিনিময়ে ধান নিত। মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম উপকরণ চুল ও দাড়ি যা নিয়ে ভাবনারও শেষ নেই। বিশেষ করে ছেলেদের ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে চুল ও দাড়ি। সৌন্দর্যবর্ধনে নরসুন্দরদের কদর ও প্রয়োজনীয়তাও অনেক বেশি। যাদের পেশা চুল ও দাড়ি কেটে মানুষকে পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় করে তোলা, তারাই নরসুন্দর বা নাপিত। সময়ের বিবর্তনে সেই পিঁড়ি কিংবা টুলে বসে চুল কাটার দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। হাটবাজারে পিঁড়িতে বসে চুল কাটা নতুন প্রজন্মের কাছে এখন গল্পের মতো। তকিপল হাটে গিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নরসুন্দর ধরনী শিলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এখন আর আগের মতো হাটে কাজ হয় না। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন হাট বাজারে, গ্রামে গ্রামে ঘুরে এ পেশায় কাজ করেন। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে হাটে এসে পিড়িতে বসে চুল-দাড়ি কাটতে চায় না। বাহারি রঙ্গ ও স্টাইলের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে হাটবাজারের ভ্রাম্যমাণ সেলুনগুলো। নরসুন্দও রনজিৎ জানান বৃদ্ধ বয়সে অন্য পেশায় যাওয়ার কোন উপায় নাই। অর্থেও অভাবে ভাল একটি সেলুনের দোকান দেয়ার উপায় নেই তাই বাধ্য হয়ে এই পেশায় আছি। আমাদের দুঃখ কষ্টের কথা কেউ শুনে না। এই পেশায় আয় কমে যাওয়ায় দিনদিন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ, জীবনযাত্রার পরিবর্তনে এ পেশার মানুষরা টিকে থাকতে সংগ্রাম করছেন। এই পেশা কে টিকিয়ে রাখতে সরকারী ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।