আদমদীঘিতে পত্রিকা ব্যবসার বেহাল দশা, বিকল্প পেশায় ছুটছেন পত্রিকা বিক্রেতারা
প্রকাশ : 2026-04-28 18:51:57১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় পত্রিকা ব্যবসায় বেহাল দশা চলছে। এলাকায় আগের তুলনায় পত্রিকা কেনাবেচা বহুগুনে কমে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন অনেক পত্রিকা ব্যবসায়ী। পত্রিকা বিক্রিতে ধস নামায় বেশির ভাগ পত্রিকা বিক্রেতা এই পেশা ছেড়ে দিয়ে বিকল্প পেশা খুজঁছেন। পত্রিকা বিক্রেতার পাশাপশি এলাকার পত্রিকার এজেন্টরাও তাদের পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। যে দু একজন পত্রিকা বিক্রেতা এখনও এ ধরে রেখেছে তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ৯০ দশকের শেষের দিকে আদমদীঘি উপজেলায় পত্রিকা বিক্রেতার সংখ্যা ছিল প্রায় শতাধিক কিন্তু বর্তমানে উপজেলা সদর, সান্তাহার জংশন ও আশপাশের এলাকায় মাত্র চার থেকে পাঁচজন পত্রিকা বিক্রেতা রয়েছেন। আদমদীঘি উপজেলার পত্রিকা বিক্রেতা মুকুল হোসেন বলেন, আজ থেকে পাঁচ সাত বছর আগেও আমি তিন থেকে চার’শ পত্রিকা বিক্রি করতাম কিন্তু বর্তমানে আমি এক থেকে দেড়’শ পত্রিকা বিক্রি করি। পত্রিকা বিক্রির পাশাপাশি আমি পত্রিকার এজেন্ট কিন্তু সে পেশায় ও ভাল অবস্থা নেই। পত্রিকা বিক্রেতা জাহাঙ্গির আলম বলেন, আমি আগে পত্রিকা বিক্রি করতাম কিন্তু পত্রিকা বিক্রি ব্যপকহারে কমে যাওয়ায় সে পেশা ছেড়ে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমি এখন ফেরি করে মশারী বিক্রি করি। একই ভাবে আরেক পত্রিকা বিক্রেতা জিয়া এখন সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে বাদাম বিক্রি করেন। পত্রিকা ব্যবসায় ধস নামায় অর্থ অভাবে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মাত্র ১৫ দিন আগে ধুকে ধুকে মারা গেছেন আদমদীঘির পত্রিকা বিক্রেতা মোলেছার রহমান। পত্রিকার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে এলাকা ছেড়েছেন আদমদীঘির আরেক পত্রিকা এজেন্ট আওয়াল হোসেন। সান্তাহার জংশন ষ্টেশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রাচীন পত্রিকার দোকান সান্তাহার রেলওয়ে বুক ষ্টল। সেই দোকানের মালিক দিলদার হোসেন, একাধিক পত্রিকার এজেন্ট ছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রায় সব এজেন্সি ছেড়ে দিয়েছেন। এজেন্ট দিলদার হোসেন বলেন, পত্রিকা ব্যবসায় বেহাল অবস্থার কারনে বেশির ভাগ এজেন্সি ছেড়ে দিয়েছি এখন আমার দোকানে পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের জায়গায় স্থান পেয়েছে শিশুদের খেলনা, হাতপাখা, রুমাল, টুপি সহ বিভিন্ন পণ্য। তিনি বলেন, প্রায় সকল পত্রিকা কর্তৃপক্ষ অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করায় পাঠক আর ছাপা পত্রিকা পড়তে চায়না। এ কারণে স্বাভাবিক ভাবে পত্রিকা বিক্রি কমে গেছে, বেকার হয়ে পড়েছেন পত্রিকা বিক্রেতা ও পত্রিকার এজেন্ট।