আদমদীঘিতে আহত সুব্রতের শরীরে ১৭২ সেলাই, হামলাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী

প্রকাশ : 2026-06-06 11:35:25১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

আদমদীঘিতে আহত সুব্রতের শরীরে ১৭২ সেলাই, হামলাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে টাকা চেয়ে না পাওয়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে হামলা চালিয়ে সার্জিক্যাল বেøডের আঘাতে সুব্রত মহোন্ত (৪০) নামের ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৭২ টি সেলাই দিতে হয়েছে তাঁর। শুক্রবার সকালে তিনি হামলাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার আদমদীঘি থানায় তার মা অঞ্জলী রানী বাদী হয়ে প্রতিবেশি মৃত গোপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে মিঠু সরকার (৪০) ও  মৃত বিকম সরকারের ছেলে প্রসেঞ্জিৎ সরকারের (৩৭) নামে মামলা করেন। 

মামলা ও স্থানিয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের কলসা রথবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সুব্রত মহোন্ত। তার হবির মোড় এলাকায় ওয়ার্কশপের দোকান রয়েছে। অভিযুক্ত মিঠু সরকার ও প্রসেঞ্জিৎ সরকার তার প্রতিবেশি। একারনে মাঝে মধ্যে বিপদ আপদে পড়লে তারা সুব্রতের কাছে থেকে টাকা চেয়ে নিতেন। গত সোমবার সান্তাহার পুরাতন বাজারে সুব্রতের সাথে মিঠু সরকারের দেখা হলে ৫০০ টাকা চান। সুব্রত টাকা নেই বলা মাত্র তার মোটরসাইকেলে পুরো সীট সার্জিক্যাল বেøড দিয়ে কেটে ফেলে দ্রæত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বিষয়টি সুব্রত তার বাড়িতে জানাগে গেলে মিঠুর সাথে ধাক্কাধাক্কি ও প্রসেঞ্জিতের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। পরের দিন মঙ্গলবার সকালে সুব্রত ওয়ার্কশপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর ১০ মিটার সামনে যাওয়া মাত্র চলন্ত গাড়ির উপর প্রসেঞ্জিতের হুকুমে মিঠু সুব্রতকে হত্যার উদ্দেশ্যে সার্জিক্যাল বেøড দিয়ে এলোপাথারি ভাবে আঘাত করতে থাকে। এসময় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানিয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৭২ টি সেলাই দিতে হয়েছে।

সুব্রত মহোন্তের মা অঞ্জলী রানী বলেন, মিঠু ও প্রসেঞ্জিৎ জেলে থাকলেও তার মা, স্ত্রী ও বোন আমার পরিবারের সদস্যদের এখনো হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। 

প্রতিবেশি নিলিমা বলেন, মিঠু ও প্রসেঞ্জিতের অত্যাচার বেড়ে গেছে। মিঠু এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। সে চিহ্নিত অপরাধী। কিন্তু জেলে গেলেও কয়েকদিন পরই ছাড়া পায়। এবার আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফরিদ হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে মিঠু ও প্রসেঞ্জিৎ দুজনেই জেল হাজতে রয়েছে। তবে আহত সুব্রতের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই।