আগে যে যার মতো সময় নিয়ে অফিস করতো এখন সে সুযোগ নাই-পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : 2026-02-28 19:04:35১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আগে সবাই যে যার ইচ্ছে মত অফিস করতো তবে এখন আর সেই সুযোগ নেই। এখন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে হয়। প্রধানমন্ত্রী পৌনে নয়টার মধ্যে অফিসে আসেন। তিনি শনিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত পঞ্চগড়ের সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এর আগে সবাই যে যার ইচ্ছে মত অফিস করতো তবে এখন আর সেই সুযোগ নেই। পর্যায়ক্রমে এই রীতি সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা অফিসে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা যারা মন্ত্রী হয়েছি আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সকাল ৯টার মধ্যে অফিস পৌঁছাতে হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এরপরে মন্ত্রনালয়ের মিটিং তো আছেই। আমরা আশা করবো এই চ্যালেঞ্জটাকে যেন গ্রহণ করে আগামী দিনে সবার জন্য একটা বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।
তিনি আরো বলেন, দুর্নীতির টুটি আমি চেঁপে ধরবোই। এই ক্ষেত্রে আমি আপোষ করবো না। আমি অনুরোধ করেছিলাম আহ্বানও করছি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরকে।এটাকে গ্রহণ করবেন যারা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবেন। আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আপনারা যেন আগামী দিনে আরো ভালো জায়গায় প্রশাসনিকভাবে যেতে পারেন এই জায়গায় আমি আপনাদেরকে সাহায্য করবো।
তিনি বলেন, অনেকের ধারণা পানি উন্নয়ন বোর্ড মানেই দুর্নীতি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে বলা হয় বর্ষা এলেই বোল্ডার ফেলা হয়। কত টাকা খরচ হলো কিছু জানা যায় না। এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা সেখান থেকে আমাদের বের হতে হবে। আমরা হয়তো সহজে পারবো না, তবে আমরা শূন্য করে শুরু করতে পারি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে এবারই প্রথম আমরা টিমওয়ার্ক করছি। আমরা আগামী ৪ বছরে ১২ হাজার কিলোমিটার নদী খাল ও জলাশয় খনন করবো। বাকিটা অন্য মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। এর আগে আমরা দেখেছি নদী খনন করার পর বালি পাড়েই রাখা হতো। বৃষ্টি হলেই সেই বালুতে আবার নদী ভরাট হয়ে গেছে। এবার সেই সুযোগ থাকবে না। এবার খননের বালি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে। এর পাশাপাশি পাঁচ বছরে আমরা ২৫ কোটি গাছ লাগাবো। নদীর ধারে গাছের চারা রোপন করা হবে। গাছ পরিচর্যার জন্য ৩ বছরের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয়দের দায়িত্ব দেয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদকের মতো অপকর্মে যদি আমার দলের কোন কর্মী এমনকি আমার পরিবারের কোনো সদস্য বা ভাইও জড়িত থাকে আমি আপোষ করবো না। ঈদে ভিজিডির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলতো দল দেখে নয় প্রকৃত দুস্থরা যেন এটি পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। বিগত দিনে আমরা দেখেছি এমপিদের স্বচ্ছল আত্মীয় স্বজনরা এটা নিয়েছে।
তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি করেছি, যুবদল করেছি, এখন বিএনপি করি। কিন্তু দিন শেষে আমি একজন পঞ্চগড়বাসী। এখানে কে আমাকে ভোট দিয়েছেন আর কে দেননি, তা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। আমি সবার এমপি, সবার মন্ত্রী। আমার মন্ত্রণালয় ও অফিসের দরজা সবার জন্য সবসময় খোলা। আমি সকল রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। পঞ্চগড়ে মাদক ও ক্যাসিনোর মূল হোতাদের ধরতে পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে। অপরাধীদের ধরতে হবে।
জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় জেলা বিএনপি আহবায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুল বাসার বসুনিয়া, এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক তানবিরুল বারী নয়ন, পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এসময় জেলার পাঁচ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রেনী পেশার সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।