আগামীকাল ৩ সেপ্টেম্বর যান চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

প্রকাশ : 2023-09-02 17:37:07১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

আগামীকাল ৩ সেপ্টেম্বর  যান চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশের প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের মধ্যে বিমানবন্দর-ফার্মগেট ১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশের উদ্বোধন করেছেন।

রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে যান চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে।

এর সাহায্যে একটি গাড়ি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে কাওলা থেকে ফার্মগেটে পৌঁছতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে।

বিদেশী বিনিয়োগে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় পরিবহন খাতে এটিই প্রথম প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটি টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলা এলাকায় উত্তর প্রান্ত থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ করে।

তিনি আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে নাগরিক সমাবেশে যোগ দিতে তেজগাঁও এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামেন।

প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যেতে পারবে।

এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা শহরের উত্তর অংশের সাথে মধ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করে শহরের অভ্যন্তরে এবং আশপাশে ট্রাফিক সক্ষমতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর ফলে আশপাশের ওভারলোডেড রাস্তাগুলোর যান চলাচলও সহজ হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর কাওলা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী এলাকা হয়ে কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত চলাচল করবে।

এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করার জন্য যানবাহনগুলোকে টোল দিতে হবে। চারটি ক্যাটাগরিতে টোল আদায় করা হবে।

প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস (১৬ আসনের কম) এবং মিনি-ট্রাক (৩ টনের কম) ৮০ টাকা, মাঝারি আকারের ট্রাক (৬ চাকা পর্যন্ত) এবং ৬ চাকার বেশি বড় ট্রাক যথাক্রমে ৩২০ টাকা এবং ৪০০ টাকা দিতে হবে।

এদিকে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাওলা-ফার্মগেট অংশে ১৬ বা তার বেশি আসন বিশিষ্ট সব বাস ও মিনিবাসকে দিতে হবে ১৬০ টাকা।

এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল, সাইকেল ও থ্রি-হুইলার চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে না।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি ২০১১ সালে হাতে নেয়া হয়েছিল।


২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের বিনিয়োগকারী কোম্পানি ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের সাথে একটি সংশোধিত চুক্তি সই করে।

এটি থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতালীয় থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (৫১ শতাংশ), চায়না শানডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কোঅপারেশন গ্রুপ (৩৪ শতাংশ) এবং সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড (১৫ শতাংশ) এর অংশীদারিত্বে নির্মিত হচ্ছে।

প্রকল্পটি তিন ধাপে শেষ হচ্ছে। বনানী পর্যন্ত প্রথম অংশের ৯৮ শতাংশ এবং বনানী থেকে মগবাজার পর্যন্ত ৫৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকার উত্তর থেকে দক্ষিণে বিকল্প সড়ক হিসেবে কাজ করবে। এটি হেমায়েতপুর-কদমতলী-নিমতলী-সিরাজদিখান-মদনগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-মদনপুরকে সরাসরি সংযুক্ত করবে।

অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ না করে সরাসরি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারবে। যার ফলে ঢাকায় যাতায়াতের সময় ও যানজট কমবে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কুড়িল এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

চীনা ফার্ম চায়না শানডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল করপোরেশন, পিপিপি প্রকল্পের তিনটি ব্যক্তিগত অংশীদারের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিচালনা করবে।

কুড়িল, বনানী, মহাখালী ও তেজগাঁও হয়ে বিমানবন্দর-ফার্মগেট অংশটি শহরের অন্যতম ব্যস্ত রুট বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়ার বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করবে।

১৫টি র‌্যাম্পসহ এটি যানবাহনগুলোকে যানজটপূর্ণ রাস্তা এড়িয়ে চলতে সহায়তা করবে। আজ ১৩টি র‌্যাম্প খোলা হয়েছে।

সূত্র অনুসারে, অন্যান্য যানবাহন শুরুতে ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করবে।