আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নবী মুজিব, কেবলা ধানমন্ডি-৩২, আর পবিত্র নগরী গোপালগঞ্জ: সালাউদ্দিন আম্মার

প্রকাশ : 2026-05-16 13:01:03১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নবী মুজিব, কেবলা ধানমন্ডি-৩২, আর পবিত্র নগরী গোপালগঞ্জ: সালাউদ্দিন আম্মার

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, চিত্রনাট্যকার ও তরুণ অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের অকাল প্রয়াণে যখন দেশজুড়ে শোকের ছায়া, ঠিক তখনই তার অসুস্থতা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহলের কুৎসিত উল্লাস প্রকাশের ঘটনা ঘটেছে। কারিনা কায়সারের মৃত্যুর পর ইন্টারনেটে চলা এই অমানবিক আচরণের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।

আজ শনিবার (১৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কুরুচিপূর্ণ উল্লাসের পেছনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মানসিকতাকে দায়ী করে একটি কড়া স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার তার ফেসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ ও তাদের মানবতাবোধের চরম সমালোচনা করে লেখেন: ‘আগেও বলেছি, আওয়ামীলীগের স্পেসিফিক কোনো ধর্ম নেই। দলই তাদের ধর্ম, রাজনৈতিক নবী মুজিব, কেবলা ধানমন্ডি-৩২, আর পবিত্র নগরী গোপালগঞ্জ। এর বাইরে তাদের কোনো মানবতা কাজ করে না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ কারিনা কায়সারের মৃত্যুর পর একশ্রেণীর মানুষের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন: ‘জুলাইয়ের পরিচিত মুখ কারিনা কায়সার আপুর মৃত্যুতে যেভাবে উল্লাস প্রকাশ করা হচ্ছে সেটাই তার প্রমাণ। আর এই আওয়ামীলীগ মাশরাফি-সাকিবদেরই আওয়ামিলীগ।’

উল্লেখ্য, লিভার-সংক্রান্ত তীব্র জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন কারিনা কায়সার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কারিনা যখন হাসপাতালের বিছানায় লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন এবং তার পরিবার চরম কঠিন সময় পার করছিল, তখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষের চরম নেতিবাচক ও অমানবিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ তার এই মারাত্মক অসুস্থতাকে ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ বলে মন্তব্য করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। সামাজিক মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের পক্ষে ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা কারিনাকে নিয়ে এই ধরনের হিংসাত্মক আচরণ দেশের রাজনীতির এক ‘আহত ও রুগ্ন অংশের’ প্রতিফলন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।