36 C
Dhaka
Saturday, December 5, 2020
No menu items!
More

    রেজাউদ্দিন স্টালিন -বাংলাভাষার বৈশ্বিক কণ্ঠস্বর

    নাসিমা হক মুক্তা

    কবি গ্যালওয়ে কিনেল বলেন –
    যা- ই ঘটে ঘটুক। যা হোক না কেন।
    এই এই এই ‘কী’ মানে কী?
    আমি চাই। শুধু সেটি চাই। আর কিছু নয় “। কবির মতে আমিও বলতে চাই আমার কি ঘটছে নিত্য তা আমি জানি না। শুধুই ভালবেসে বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিকদের পাঠ করছি আপনমনে। কিছু পাওয়ার আশায় নই। না পাওয়ার অববয়ে যা আমি পাচ্ছি তার আনন্দের সীমা নেই, পরিতৃপ্তির সীমা নেই।মনে হয় প্রকৃতির সৌন্দর্যের ভেতর শুভ্র হয়ে ফুটছে আমার অন্তঃ বাস। সত্যি আমি মুগ্ধ। এই মুগ্ধতা আমাকে মানুষ চিনতে বা তাদের ভালবাসতে উৎসাহ দেয়।এই উৎসাহের ভেতর সুপ্ত হয়ে দিনদিন বড় হচ্ছে একটি আকাঙ্খা। যা আমাকে অনুগত করে অন্যের অনুভূতির বিভিন্ন ঢঙে। আমি তাতে ডুবে যায়, তাদের পাঠ করি। তাদের লিখিত ছন্দ, বিন্যাস, অনুরাগ ও শিল্পকর্মের এক একটি জগতকে বিচিত্রসূত্র পড়তে পারা বিশেষ একটি প্রাপ্তি। সে প্রাপ্তি থেকে মাঝে মাঝে আমিও কিছু লিখি। তবে সেটি কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ বা রচনা কিনা আমি জানি না। যা করি বা লিখি তা ভালবেসে করি।

    এই কবিতা পড়তে গিয়ে কত যে কবির প্রেমে পড়েছি তা বলে বুঝানো মুশকিল। একজন পাঠক যখন কোন লেখকের বই পড়ে তখন সেই লেখক অনুরূপ অনেকটা সে ভাবের ভুবনে বিচরণ করে যা তার পুরোপুরি পাঠকের অস্তিত্বে জায়গা করে নেয়। কবি যখন প্রেম নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস দেখায়, বা আবেগ, ভাব, জগৎ, প্রকৃতি বা বিরহ যেটাতে মনোনিবেশ করে ঠিক একজন পাঠক সে আদলের মনস্তাত্ত্বিকে ডুবে যায়। প্রতিটি কবি ঐশ্বরিক সত্তার বলয়ে জীবন কে দেখতে পান উপস্থিত কর্মকান্ডে।যা কবির সহজাত প্রবৃত্তি বা সৌন্দর্য। এ যেন জননীর পদতলে পুষ্প ছিটানোর সুখ। একজন মায়ের সাথে প্রতিটি সন্তানের যে সম্পর্ক ঠিক একজন লেখক ও তাঁর লেখনী সত্তার সে সম্পর্ক। বলা যায় – কবি মানেই নরম ও কোমল মনের একজন মানুষ। সে মানুষ যখন আত্মার চোখ দিয়ে সৃষ্টিকে দেখে, তখন কিছু না কিছু মনের ভাব ভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশ করে। পাঠক সেটিকে কবিতা বললেও একজন কবি সেটিকে কি বিশ্লেষণ করে তা আমার জানা নেই। কারণ কবি সৃষ্টিশীল, বিনিময় প্রত্যাশা করে না। যা মনে আসে তা প্রকাশ করার ভিন্ন- কৌশলে আলাদা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। সেটি হচ্ছে কবির শক্তি। সে রকম শক্তিমান কৌশল ও আঙ্গিকের কবি হলো রেজাদ্দিন স্টালিন।

    নামেও বেশ ভাবগাম্ভীর্যের সুনিপুণ অনুরাগ আছে। কবিকে দেখে হয়ত অনেকের রাগী স্বভাবের ধারণাও আসতে পারে। দেখে যতটুকু রাগী মনে বলে হয়, কিন্তু বাস্তবে মনে হলো – খুব সাধু ও সরল মানসপুত্র। মাঝে মাঝে টিভির পর্দায় ভেসে ওঠেন, বিনয়ী স্বভাবে। আমার সাথে দীর্ঘদিন ফেইসবুকে বন্ধু হিসেবে আছেন। আমি যতটুকু চেহারা পড়েছি তাতে বুঝা যায় যে – ভদ্র ও মার্জিত মানুষ। চলনে-বলনে এক্কেবারে সাদামাটা। বেশ লাজুক ও মানবিক। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ও রোমান্টিক কবি। মূল্যাবোধের অবক্ষয়, সামাজিক দৈন্যতা, কুসংস্কার, প্রেম, বিরহ ও প্রকৃতি সব মিলেমিশে একাকারের এক শক্তিশালী লেখক। নিরবে-নিভৃতে চাষ করে যাচ্ছেন আধুনিক থেকে নতুন আধুনিকের কলাকৌশল, শব্দ ও বাক্যবিন্যাসে। লেখার শুরু থেকে সাহিত্য অকাতরে দিয়ে যাচ্ছেন নিজের মেধা ও শ্রম। তিনি বাংলাদেশ বাংলা সাহিত্য আশির দশকে যাত্রা করলেও এখন সবুজ তারুণ্যে ভরপুর। মূলত কবি রেজাদ্দিন স্টালিন একজন প্রেমের ও দ্রোহে। তবে তাকে দেখে তা বুঝা যায় না। সৃষ্টিকর্তা যাকে প্রতিভা দান করেন তা এমনভাবে দেন যে তার মাধ্যমে একটি জগত আলোকিত হয়ে ওঠে। আমাদের কবি রেজাদ্দিন স্টালিনও আলোকিত। সাহিত্যে সমালোচনা থাকলেও সবকিছু ছাড়িয়ে আলো ছড়িয়ে ছড়িয়ে আরও আলোকিত হচ্ছেন ইদানীং কালে। তা জানতে পারছি নিত্য। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিকেরা তাঁর ভক্ত উঠলেন এবং বিভিন্ন দেশের তাঁর কবিতা চর্চা হচ্ছে। যেমন – আরবি,ফার্সী, অসমিয়া, ইটালিয়ান, উর্দু, মাক্সিকান, স্পেন, রাশিয়ান, নাইজেরিয়ান ভাষা , আর্জেন্টিনা ও ইংরেজী ভাষায় অনূদিত হলো।

    সেক্ষেত্রে রেজাদ্দিন স্টালিন একজন বৈশ্বিক কবি। দেশ তথা বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। সেটি নিশ্চয়ই বাংলা সাহিত্য জগতের জন্য গর্বের। আমি একান্ত পাঠক হিসেবে তাঁর এসব কর্মের জন্য বেশ গর্ববোধ করি। কবি জগতজয় করে কালের সাক্ষী হোক। তাঁর যেসব কবিতা – অনূদিত তা হলো- অভয়, প্রতিধ্বনির পথ, ( স্প্যানিশ ভাষায়,অনুবাদকঃ লুইস লুনা ), ফেরা ও বৈপরীত্য ( নাইজেরিয়ার উইরভি ভাষায়, অনুবাদক : প্রিন্স স্ট্রেভ ওইবোডি), কবির গল্প ( রাশিয়ান ভাষায় অনুবাদক : বেলারোশিয়ান, স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন – ইভন্নি সানহিজ ভ্যারিয়া ), ফেরা ( উর্দু ভাষায় অনুবাদ করেছেন : সাজিদ হোছাইন) এই রকম অসংখ্য কবিতা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হচ্ছে। সত্যি বড় সেটি আমাদের জন্য পরম আনন্দের। সেজন্য রেজাদ্দিন স্টালিন একজন সফল ও চমৎকারিত্বের লেখক। বয়স তো গড়িয়ে যাচ্ছে, কবি গড়াচ্ছেন শব্দের সাথে আবেগ ও ভাষার সংমিশ্রণে অসাধারণ লেখনশৈলীর সৃষ্টি জগতে। দিনদিন সবুজ থেকে আরও সবুজ হচ্ছে। বর্তমানে বাংলা সাহিত্য এক ধরনের প্রাপ্তি ও তৃপ্তি বিরাজ করছে। যা এক্কেবারে বলা যায় – আনাড়ি, অনভিজ্ঞ চর্চা, উদাসীন ও দায়বদ্ধহীন লেখকের আনাগোনা বা তাদের তুষ্টে মুগ্ধ হয়ে ভেসে ওঠে ফেইসবুক স্কীন । যা পড়তে গেলে সত্যি বিবেক প্রশ্নবিদ্ধ হয় ও চর্চাহীন সাহিত্যে এক অবহেলিত জ্ঞানচর্চা। অথচ দিনের পর দিন রেজাদ্দিন স্টালিনরা দায়বোধকে লিখে চাচ্ছেন। দেশ কে পরিচয় করাচ্ছেন মেধা ও মননে। কবি দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশকে ভালবাসেন হৃদয় দিয়ে। কবির এই আচরণ দেখে আমি মুগ্ধ হই এবং অনুকরণ বা শিখতে চেষ্টা করি।

    কবি রেজাদ্দিন স্টালিন লেখালিখি শুরু করেন কৈশোর বয়সে। ১৯৭০ সালে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ” শপথ ” শতদল পত্রিকায় সেটি যশোর থেকে বের হতো। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ১০১ টি। কাব্যগ্রন্থ ৬৫ টি, তার মধ্যে বেশ সমাদৃত হলো – ফিরিনি অবাধ্য আমি, ভেঙে আনো ভেতরে অন্তরে, সেইসব ছন্দবেশ, আঙুলের জন দ্বৈরথ, হিংস্র নৈশভোজ ও তদন্তরিপোর্ট ইত্যাদি । আর ছড়া গ্রন্থ হাঁটতে থাকো, শৈশব ও চিরশিশু এবং গদ্য বই হলো – রবীদ্রনাথ আরোগ্য, নজরুলের আত্ম নৈরাত্ম, নির্বাসিত তারুণ্য, কাঠকয়লায় লেখা। তাঁর কবিতা অনূদিত হলো ২১ টি ভাষায়। তিনি একজন আবৃত্তি শিল্পীও। রেজাদ্দিন স্টালিন ঘরে – বাইরে দুদিকে সমাদৃত। তাঁর পুরস্কারের উল্লেখযোগ্য হলো – বাংলা একাডেমি, মাইকেল মধুসূদন, ভারতের সব্যসাচী পুরস্কার, দার্জিলিং নাট্যচক্র, পশ্চিমবঙ্গের সেন্টার স্টেজ সম্মাননা,ইংল্যান্ড জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ও লসএন্জেলস সস্মাননা ছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ভ্রমণও করেছেন বেশ কয়েকটি দেশ। তারমধ্যে ভারত, নেপাল, দুবাই, আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও চীন। আগামী ২২ নভেম্বর বরণ্য কবি রেজাদ্দিন স্টালিনের জন্মদিন । তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা সহ সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

    রেজাউদ্দিন স্টালিন তার সমকালীন অনেকের চেয়ে অগ্রগামী। ভারতীয়,গ্রিক,রোমান,আরব্য,পারস্য পুরাণের প্রাসঙ্গিক ব্যবহার স্টালিনের কবিতাকে করেছে বৈশ্বিক। এখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্টালিন বহুল অনূদিত। তার কবিতার বহুস্বরতা আমাদের অভিভূত করে।আমি রেজাউদ্দিন স্টালিনের অপ্রতিহত হোক কামনা করি।

    সর্বশেষ

    শিবগঞ্জে শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

    রশিদুর রহমান রানা শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়া জেলার খাদ্যশস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত শিবগঞ্জ উপজেলার মাঠগুলো এখন কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে।...

    কোনো ইস্যুতেই বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক: কোনো ইস্যুতেই বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

    বিজিবিকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজিবি এখন জলে,...

    করোনায় মারা গেলেন সাংবাদিক সুকান্ত সেন

    নিউজ ডেস্ক: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক সুকান্ত সেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

    যেকোনো পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করতে হয় সেটা প্রধানমন্ত্রী জানেন: সেতুমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি রাজধানীর ধোলাইপাড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে যে বিতর্ক উঠেছে...