36 C
Dhaka
Tuesday, September 29, 2020
No menu items!
More

    কান্নার শব্দ


    মেরিনা সুলতানা

    কান্নার শব্দে হঠাৎ রুপার ঘুমটা ভেঙে যায়। কে কাঁদে এতরাতে! বালিশের নিচ থেকে ফোনটা বের করে সময়টা দেখলো রূপা।রাত দেড়টা বাজে। গভীর রাত, শুনশান নিরবতা চারপাশে। পাশে বিশ্রী রকমের নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে রাজিব। আবার ঘুমানোর চেষ্টা করে রূপা। রোজার দিন, সাড়ে তিনটায় সেহেরি খেতে উঠতে হবে। করোনাকালের লকডাউনের কারণে বুয়া নেই। সারাদিন একা সংসারের সব কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠে রূপা।এখন আর পারেনা আগের মত। বয়স তো পঞ্চাশের বেশী হলো। শরীরের আর দোষ কী!

    প্রেশার,ডায়বেটিস,কোলেস্টেরলকে সাথে নিয়ে দিন পার করতে হয় তার। ভাতের চেয়েও ঔষুধ বেশী খেতে হয়। একটু ঘুমাতে না পারলে প্রেসারটাও বেড়ে যায়। চোখ লেগে আসে, দুচোখের পাতা এক হতে না হতেই নানান দৃশ্য ভাসতে থাকে তার চোখের সামনে। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠে। রাজিবের ঘুম ভেঙে যায়। বলে, কী হয়েছে? খারাপ স্বপ্ন দেখেছ? রূপা বলে, হুম! কিন্তু রাতে স্বপ্নের কথা বলা যায় না, রূপার এমনই বিশ্বাস। বললে নাকি সেটা সত্য হয়ে যায়। মুরুব্বিদের কাছে এমনটাই জেনেছে । তাই রুপা রাজিবকে আর কিছু বলে না।

    কিছুক্ষণ পর মাইকের আওয়াজ ভেসে আসে- সেহেরির সময় হয়েছে। রূপা উঠে পড়ে। টেবিলে খাবার রেডি করে সবাইকে ডেকে তোলে। ফজরের নামাজ শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও রূপার ঘুম আসে না। সারাদিনের নানা কাজের চিন্তা মাথায় ভীড় করে। রূপা খুব গাছপালা ভালোবাসে। তাই তার বাসা সে সবুজ করে রেখেছে। যেনো প্রকৃতি স্বয়ং তার ঘরে। ড্রয়িং রুম,বেড রুম সবখানে তার সবুজের ছোঁয়া থাকা চাই। তার বারান্দায় বিভিন্ন রকম অর্কিড আর স্যাকুলেন্ট দিয়ে সাজানো। ছাদেও সে বিভিন্ন ফুল,ফল আর সব্জির বাগান করেছে। সে ধীরে ধীরে ছাদে চলে গাছের কাছে।

    করোনার মহামারির কারণে অফিস বন্ধ থাকায় রাজিবও গাছের যত্নে ইদানিং সময় দেয়। এপাশ ওপাশ করে পাশে রূপাকে না পেয়ে রাজিবও ছাদে চলে যায়। রূপা প্রতিদিন নতুন কোন ফুল ফুটলেই তার ছবি তোলে। বাগানে ভ্রমর, প্রজাপতি, পাখি, ফড়িং ঘুরে বেড়ায়। রূপা সেগুলোর পিছে পিছে যায়, আর ছবি তোলার চেষ্টা করে।

    কিন্তু আজ ক’দিন ধরে ছাদে গিয়ে রূপার চোখ একদিকে শুধু আটকে থাকে। তাদের বাসার সামনেই খিলগাঁও তালতলা কবরস্থান। ইদানীং সরকারীভাবে এখানে করোনা আক্রান্ত মৃতদেহ গুলো কবরস্থ করা হবে এমন সিদ্ধন্ত হয়। তাই প্রতিদিন সকাল বিকেল রাত কবর দেয়ার কাজ চলে। ছাদে গেলেই তা স্পষ্ট দেখতে পায় রূপা। আজো সে দেখে গোরখোদক নয়, মেশিন দিয়ে লন্বা করে গর্ত করা হচ্ছে।রাজিবকে দেখায়, আর ভাবে এখানে কি গন কবর হবে? খবরে তো মৃতের সংখ্যা বেশী বলেনি। তাহলে এমন করে কবর করে কেনো?

    ভাবতে ভাবতে ফুলের ছবি বাদ দিয়ে সে পিপিই পড়া মানুষগুলো কীভাবে লাশ দাফন করে, কবর দেয় তার ছবি তোলে। কেমন আনমনা হয়ে যায় রুপা। বাসায় আসার রূপার বারান্দা দিয়ে শুধু চোখ যায় কবরস্থানের দিকে। দিন যেতে থাকে, রূপা করোনার ভয়ে ভীষণ আতঙ্কিত। সারাদিন ছেলে মেয়েসহ সবাইকে শুধু সাবধান করে আর টিভিতে দেখে কতজন নতুন আক্রান্ত, কতজন মারা গেলো আরকতজন সুস্থ হলো। আর ম্যাসেঞ্জার তো আছেই।

    মানুষের খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, রাজ্যের সব করোনার খবরাখবর সব রূপাকেই তাদের জানাতে হবে? রূপা পড়ে আর রাজিবকে শোনায়।রাজিব বিরক্ত হয়। রূপা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। সে রাজিবকে বুঝায় এভাবে চলবে, এটা করবে না, ওটা করবে না।

    সামনে তো অফিস খুলে দেবে। তোমার বের হতে হবে।কেমনে কী হবে, তুমি তো একটা ভোলা মানুষ, বাসায় করোনা এনেই ছাড়বে ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবেই দিন যায় রাত আসে। রাত এলেই রূপার যত ভয়। সে রাতে চিকন সুরে মেয়ে মানুষের কান্নার শব্দ শুনতে পায়। তার ধারনা কেউ কবরস্থানে বসে তার পরিজনদের জন্য কাঁদে। কিন্তু রাজিব বুঝায়, এতরাতে কেউ ওখানে যাবে না।সবারই ভয় আছে। তোমার অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা থেকে হয় এসব কল্পনায় আসে। রূপা ভাবে তাইতো! এত রাতে তো কেউ ওখানে যাবেনা। তাহলে কে কাঁদে,সত্যি কি এসব কল্পনা আর স্বপ্ন!

    রূপার সমস্যা দিন দিন বাড়তেই থাকে। কান্নার আওয়াজ তার কানে যেন স্থায়ী হয়ে গেছে। আজ প্রায় দেড়মাস ধরে কেউ বাসা থেকে বের হয় না। বেশি অসুস্থ্য হয়ে গেলে তো ডাঃ এর কাছে যাওয়া যাবে না।সবই বোঝে রূপা। কিন্তু কি করবে সে? তার ধারণা হয় হয়তো মৃত মানুষের কান্নাই কবর থেকে ভেসে আসে। নতুবা কোন মানুষের একটু প্রাণ আছে বুঝতে না পেরে কবর দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এমন চিন্তার কথাগুলো কাউকে বললে কেউ বিশ্বাস করবে না, উল্টো তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।

    একদিন রূপা নিচতলার এক ভাবীকে বললো, রাতে কি কোন কান্না শব্দ শোনেন? মনে হয় দূরে কেউ কাঁদে এমন? ভাবী বললেন কই নাতো! রূপা চুপ হয়ে যায়। গত কয়েকদিন থেকে টানা বৃষ্টি। আজ মাঝরাত থেকে খুব বেড়েছে বৃষ্টি । সেহেরি খাওয়া শেষ হলে রূপাকে অন্য সব ঔষধের সাথে একটি ঘুমের ওষুধ দেয় রাজিব। রূপা আজ ঠিক দুপুর বারোটায় ঘুম থেকে উঠে। উফ! কী শান্তির ঘুম! সব কাজ সেরে বিকেলে মেয়েদেরকে ইফতারের ভাজাভাজি দেখিয়ে দিয়ে রূপা গাছগুলো দেখতে ছাদে যায়, পেছনে পেছনে রাজিবও। গাছগাছালির দেখাশোনা শেষ করে নামতে গিয়ে দেখা হয় পাশের ফ্ল্যাটের সোলেমান সাহেবের সাথে।

    সোলেমান সাহেব বললেন, কী ভাই,কী খবর? রাজিব বলে এইতো! আপনি কেমন আছেন? কেমনে থাকি ভাই? সারারাত কুত্তার চিল্লাচিল্লিতে একটুও ঘুমাইতে পারি না।বৃষ্টির পানিতে কবরের মাটি নেমে গর্ত হয়ে গেছে। লাশগুলো দেখা যায়। আর কুত্তাগুলো সেখানে সারারাত চিল্লায়। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে পানি উঠে বলে এখানে এখন থেকে আর কোন মানুষকে কবর দিবে না। সবশুনে রূপা বুঝতে পার, রাতের ঐ কান্না কুকুরের। কুকুরের কান্না গভীর রাতে চিকন সুরে মানুষের কান্নার মতই শোনায়।যেমন বিড়ালের কান্না শোনায় শিশুর কান্নার মতন।
    লেখক ঃ প্রকৃতিপ্রেমি ও গল্পকার

    সর্বশেষ

    কারাগারের গেট থেকেই পাপিয়া দেখলেন মায়ের মরদেহ

    নিউজ ডেস্ক: আলোচিত যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে দেখাতে তার মায়ের মরদেহ কারাগারে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কাশিমপুর...

    জয়তু শেখ হাসিনা

    নিতাই চন্দ্র দাস কোন এক শুভ ক্ষণে১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে,নিয়েছ জন্ম টুঙ্গিপাড়ার গাঁয়েবঙ্গ মাতার কোল আলো করে।

    প্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মেহেরপুর জেলা যুবলীগের কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

    ইসমাইল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে মেহেরপুর...

    বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন

    মেহের আমজাদ,মেহেরপুর: কেক কাটা, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মুজিবনগরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে ।...

    শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা

    ইসমাইল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, মেহেরপুর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার বেলা...