36 C
Dhaka
Tuesday, September 29, 2020
No menu items!
More

    দুঃসময়ের ঈদ

    করোনার ভয়ঙ্কর দুর্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমানে এক ভীতিকর সময় অতিবাহিত করছি। প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি বন্যার প্রবল আক্রমণে বিপর্যস্ত দেশের প্রায় অর্ধেক অংশের জনজীবন। সংবাদমাধ্যমের খবরে সে খবর প্রতিদিন আমরা অবহিত হচ্ছি। বানের পানির প্রবল স্রোতে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের ভিটেমাটি ইতোমধ্যেই ভেসে গেছে। সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। করোনা এবং বন্যার আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা দেশ, দেশবাসী।

    ঠিক এমনই এক দুঃসময়ে ফি বছরের মতো আমাদের দুয়ারে উপস্থিত পবিত্র ঈদুল আযহা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই ঈদুল আযহাকে ঘিরে প্রতিবছর যে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, এবার যে তা হবে না তা বলাই বাহুল্য। প্রতিবছর ঈদের আগে রাজধানীরবাসীর একটি বৃহৎ অংশ পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান ঈদ উদযাপন করতে। ঘরমুখো সেসব মানুষের ভিড়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ-স্টীমারে যে উপচেপড়া ভীড় সৃষ্টি হয়, এবার তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল কিংবা মহাখালী-গাবতলী-সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কোথাও নেই সেই চিরচেনা দৃশ্য। সংকটের এই সময়ে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক নয়।

    করোনা এবং বন্যার কারণে এবার সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে দেশের পশু খামারি ও ব্যবসায়ীরা। সারা বছর বিপুল পরিমান অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করে তারা পশুপালন করেছে ঈদ মৌসুমে বিক্রি করে আয় রোজগারের জন্য। কিন্তু এবার কোরবানীর হাটগুলোর যে চিত্র ইতোমধ্যেই দেখা গেছে, তাতে হতাশাজনক চিত্রই ফুটে উঠেছে। খামারি ও গরু-ছাগল ব্যবসায়ীরা বিরাট অঙ্কের লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই অনাকাক্সিক্ষত লোকসানের বোঝা তাদের অর্থিক অবস্থাকে অধিকতর নাজুক করে দেবে নিঃসন্দেহে।

    অপরদিকে ঈদুল ফিতরের মতো এবারও খোলা মাঠে ঈদ জামাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে দেশবাসীকে। করোনা সংক্রমণ রোধেই এ ব্যবস্থা। কিন্তু সরকারের এ বিধিনিষেধ মানুষ কতটা মানবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেননা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে ভালো কোনো নজির আমরা এ পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারিনি।

    এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কোরবানীর ঈদের পরে করোনা সংক্রমণ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতাই হতে পারে রক্ষাকবচ। জনস্বাস্থ্যবিদদের পরামর্শকে আমলে নিয়ে মানুষ যদি সংযত হয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে, তাহলে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে।

    দেশ আজ ভয়াবহ বন্যার কবলে। দরিদ্র মানুষেরা আজ অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছে। তাদের দুবেলা খাবার জুটছে না। এ অবস্থায় বিত্তবানদের উচিত সাহায্যের হাত প্রসারিত করা। কোরবানী দিয়ে যেমন আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, তেমনি ক্ষুধার্ত, অসহায় মানুষকে খাদ্য জুগিয়েও আলাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। তাই আমরা মনে করি, যার যেমন সামর্থ্য আছে, তা নিয়ে দরিদ্র-নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাতে এই দুর্যোগের সময়েও কারো মুখ মুলিন না থাকে, কেউ যেন বঞ্চিত না হয় ঈদের আনন্দ থেকে।

    সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা।

    সর্বশেষ

    সীমান্ত হত্যা, পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ২ দেশের সম্পর্কে আঘাত হানে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। কিন্তু সীমান্ত হত্যা বা পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের মতো কিছু বিষয় এই সম্পর্কের ওপর...

    বিদেশ ভ্রমণের বিশাল আবদার কমিয়ে দিল একনেক

    নিউজ ডেস্ক: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মোট চার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দু'টি প্রকল্পে...

    ভ্যাকসিন কিনতে বাংলাদেশকে ৩ মিলিয়ন ডলার অনুদান এডিবির

    নিউজ ডেস্ক: করোনা ভ্যাকসিন কেনা ও সরবরাহের জন্য বাংলাদেশকে তিন মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

    এমসি কলেজের ঘটনা অনুসন্ধানে কমিটি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট

    নিউজ ডেস্ক: সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনা অনুসন্ধানে একটি কমিটি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল...

    প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশ, এ দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসেন। তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য...