36 C
Dhaka
Tuesday, September 22, 2020
No menu items!
More

    কানেইডিয়ান তেলের ভবিষ্যত : সামনে অনিশ্চয়তা ?

    কানাডার ক্যালগেরি থেকে আবু সাঈদ লীপু
    সম্প্রতি দু’টি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্যারিসভিত্তিক আন্তজাতিক এনার্জি সংস্থা (আইইএ) থেকে, অপরটি পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন (ওপেক) থেকে। কিছু তথ্যসূত্র দেয়া হয়েছে প্রতিবেদন দু’টিতে। পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদাও। তাই বর্ধিত মানুষের প্রয়োজন অনুসারে প্রাকৃতিক জ্বালানীর উৎপাদন বাড়াতে হবে।

    কানাডা বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ। উল্লেখযোগ্য পরিমান গ্যাসও উৎপাদন করে দেশটি। তেল-গ্যাসের মজুদ আছে প্রচুর। তাই পৃথিবীর বর্ধিত মানুষের চাহিদা পূরনে অতিরিক্ত তেল-গ্যাস সরবরাহে কানাডা অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। কিন্তু বড় একটা সমস্যা রয়ে গেছে এখানে। তেল-গ্যাসের পরিবহনের জন্য বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কারণ সম্প্রতি বেশ কটি বড় বড় প্রকল্প হয় বন্ধ হয়ে গেছে বা বাস্তবায়নে অনাকাক্সিক্ষত দেরি হচ্ছে।

    কিছুদিন আগে আইইএ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে ওয়ার্ল্ড এনার্জি আউটলুক। সেখানে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে- ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বে তেলের ব্যবহার ৩০ শতাংশ এবং গ্যাসের ব্যবহার ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এই সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের ব্যবহার কিছুটা সংকুচিত হবে। তবে পেট্রোকেমিক্যাল, ভারী যানবাহন, বিমান পরিবহন এবং জাহাজ পরিবহনে তেলের ব্যবহার উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। যা বর্তমানের দৈনিক ব্যবহার ৯৪ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে ১০৫ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত হবে।

    আইইএ গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, তেলের যুগকে বিদায় জানাতে দুনিয়ার ভোক্তারা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নন। তাই এখানেই কানাডার অনেক কিছু করার আছে। এদেশের তেলের উৎপাদন বতমানের দৈনিক ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বৃদ্ধি করে ৬.২ মিলিয়ন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আলবার্টা প্রদেশের তেলের বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। কিন্তু আইইএ উল্লেখ করেছে আলবার্টায় এই সম্প্রসারণ নানা বাঁধার সম্মুখীন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী তেল শিল্পের উন্নয়ন। এ কারণে ইতোমধ্যে তেল বিশ্বের বড় কিছু কোম্পানি আলবার্টা পরিত্যাগ করেছে, যার মধ্যে আছে- আমেরিকান কনকোফিলিপ্স, রয়েল ডাচ শেল, নরওয়েজিয়ান স্ট্যাটওয়েল। প্রতিবেদন বলেছে, আলবার্টার তেল কীভাবে বিশ্ববাজারে পরিবহন করা হবে, সে প্রশ্নের সুরাহা আজো হয়নি। নতুন পাইপলাইন বসিয়ে তেল সরবরাহের প্রকল্প-প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর অথবা বন্ধ হয়ে গেছে।

    এদিকে ওপেকের প্রতিবেদনও একই কথা বলেছে। আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে তেল সংক্রান্ত ব্যবসায় বিনিয়োগ ১০.৫ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলারে উন্নীত হবে। ওপেকের মতে আলবার্টার তেল উৎপাদন বাড়াতে পারে সরকারের উদ্যোগে। কারণ, কানাডার তেল উৎপাদন প্রকল্প এখনো বেশ আকর্ষণীয়। এখানে ভূতাত্তি¡ক এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি তুলনামূলক কম। যদিও আলবার্টার তেলের উৎপাদন খরচ বিশ্বের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশী।

    কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কীভাবে কানাডার তেল বিশ্ববাজারে নেয়া যাবে? আলবার্টা প্রদেশের কোন সমুদ্রবন্দর নেই। সেক্ষেত্রে পাইপলাইন তৈরী করা অবশ্যম্ভাবী। আর মূল সমস্যাটি এখানেই। প্রতিবেদন বলেছে, ‘বিশ্ববাজারে কানাডার তেলের বহির্গমন প্রচেষ্টা- এই গল্প এখনো চলমান।’ ফেডারেল সরকারের প্রস্তাবিত এনার্জি ইস্ট এবং নর্দান গেইটওয়ে পাইপলাইন প্রকল্প এখন মৃত। কিস্টোন এ·েল এবং ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইন সম্প্রসারণ নিভু নিভু করে জ্বলছে।

    ওপেকের গবেষণা বলছে, কানাডা পাইপলাইন তৈরীতে অভ্যন্তরীন বিভিন্ন প্রদেশের আইনগত এবং পরিবেশগত বাঁধার সম্মুখীন। দেশটি কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করে তাই দেখার বিষয়। কানাডার বিশাল তেলের সম্ভার আছে। কিন্তু পরিবেশের ক্ষেত্রে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনেক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখন দেখার বিষয় এই প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে কীভাবে দেশটি তেল-গ্যাসের উন্নয়ন সাধন করে।

    কানাডার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানী সিনোভাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমি জানি না সবগুলো পাইপলাইন হবে কী না। তবে আমি আন্তরিকভাবে চাই সবগুলো না হলেও অন্ততপক্ষে দু’টো বা তিনটা পাইপলাইন তৈরী হোক।’ তিনি আরো বলেন, ‘এত বড় প্রকল্পের জন্য মূলধনের বড় অভাব। কারণ অনিশ্চয়তা মূলধন সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’

    এমনও দেখা গেছে, প্রকল্প অনুমতি পেয়েছে কিন্তু পুরোপুরি ছাড়পত্র পাচ্ছে না। যেমন, কিন্ডার মর্গান কোম্পানীর ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইন। এটি জাতীয় এনার্জী বোর্ডের অনুমতি পায় ২০১৬ সালে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে পাইপলাইন উদ্বোধন হবার কথা। ইতোমধ্যে কোম্পানী ৮০০ মিলিয়ন ডলার খরচও করে ফেলেছে। অথচ ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের বার্নাবি শহর পারমিট দিচ্ছে না। তাই প্রকল্পের সময়সীমা নয় মাস বেড়ে গেছে।

    এরকম সমস্যা অন্য প্রকল্পগুলোতেও আছে। গ্লোবাল গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে কানাডা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটাকে সামনে রেখেই তেল-গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট দেশটি। যার ফলে নতুন চাকরির সৃষ্টি হবে, কর বাবদ অর্থ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতক উন্নয়ন হবে। সরকার, আইনপ্রণেতা এবং কোম্পানীগুলোর মধ্যে সু² ভারসাম্যে রক্ষা করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই একটা সময় কানাডাকে দৃঢ় সিন্ধান্ত নিতেই হবে, সমস্ত অনিশ্চয়তা দূর করে কীভাবে সে নতুন এনার্জি অবকাঠামো গড়ে তুলবে, কানাডার তেল-গ্যাস বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেবে। পৃথিবী তাকিয়ে আছে সে সিদ্ধান্তের দিকে। কৌতুহলী হয়ে দেখছে কানাডার সংগ্রামকে।

    (ইংরেজী থেকে অনূদিত)
    অনুবাদক: ভ‚-তত্ত¡বিদ, কানাডার ক্যালগেরিতে বসবাসরত।

    সর্বশেষ

    দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়াল

    নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ৫ হাজার ৭০০ জন কোভিড রোগী...

    আমাদের জমি-বাড়ি সবই পৈত্রিক সম্পত্তি : ড্রাইভার মালেকের ভাই

    নিউজ ডেস্ক: রোববার র‌্যাবের হাতে আটক হন স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক আবদুল মালেক। তার বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের...

    সম্পত্তিতে হিন্দু-বৌদ্ধ নারীদের সমান অধিকার চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    নিউজ ডেস্ক: স্বামী বা পিতা-মাতার সম্পত্তিতে হিন্দু ও বৌদ্ধ নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিতে আইন প্রণয়নে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আইনি...

    কারা ডিআইজি বজলুরের সম্পতি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ

    নিউজ ডেস্ক: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় কারা অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বজলুর রশীদের স্থাবর সম্পতি ক্রোক ও দুইটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের...

    একনেকে ১ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন

    নিউজ ডেস্ক: এক হাজার ২৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা খরচে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে...