36 C
Dhaka
Monday, September 28, 2020
No menu items!
More

    করোনায় কেমন আছেন কানাডাবাসী

    কানাডা থেকে আবু সাঈদ লিপু
    সকালটা শুরু হয় ভিন্নভাবে। এখন অবশ্য আর ভিন্ন বলা যাচ্ছে না। মাসখানেকের মত হয়ে গেলো প্রায়। তাই অভ্যেস হয়ে গেছে। সকালেই ঘুম ভাঙ্গে আমার আগের নিয়মেই। এরপর সব করোনার দখলে। ছেলেটা উঠে নাস্তা খেয়েই টেবিলে বসে যায়। বেইজমেন্টে সবকিছু সেট করে নিয়েছে – ওয়ার্ক ফ্রম হোম। মেয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়ে সুবিধাজনক কোন জায়গায়। অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা চলছে। উইন্টার সিমেস্টারের ব্যস্ত সময় এখন।

    আমি নিজেও টুকটাক অফিসের কাজ করছি ঘরে বসেই। আমার স্ত্রী ধীরে ধীরে উঠে এরপর। সে খুব ক্লান্ত। প্রায় প্রতিদিনই কাজ করছে। গ্রোসারি স্টোর জরুরী কাজের আওতাভুক্ত। তাই অনেক ঝুঁকি নিয়েও কাজে যেতে হয়। না করতে পারে সহজেই। কিন্তু সে যায়, কাজে যায়। বলে, কোনো না কোনোভাবে মানুষের সেবা করার একটা সুযোগ পাওয়া গেলো। চেষ্টা করি না একটু!

    বাসা থেকে গাড়িতে উঠার সময় তাকে একবার সেনিটাইজার দিয়ে জীবানুমুক্ত করা হয়। কানাডার সকল গ্রোসারি স্টোরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যাশ কাউন্টারে কাঁচের কিউবিকল বানিয়ে দেয়া হয়েছে। ক্রেতার সাথে বিক্রেতার কোনরকম নিকট-সংযোগ নেই। ক্রেতা চলে যাবার সাথে সাথে পুরো কাউন্টার জীবানুমুক্ত করা হয়। প্রতি পনের মিনিট পরপর বিক্রেতাকে বাধ্যতামূলক হাত-মুখ ধুতে হয়। এজন্য, অতিরিক্ত ওয়াশিং স্টেশন বানানো হয়েছে স্টোরের ভিতরেই। স্টোর থেকে বের হলে আরেকবার জীবানুমুক্ত করা হয়। বাসায় এসে যথারীতি উষ্ণ গরম পানিতে সাবান গলে হাত-মুখ ধোয়া। এরপর বাইরের কাপড় সরাসরি ড্রাইয়ারে দিয়ে দেয়া। বাকী আমরা তিনজন সকাল-সন্ধ্যা বাসায়ই আছি। প্রায় একমাস হয়ে গেলো।

    করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় গড়পড়তা কানেইডিয়ানের এরকমই জীবন-যাপন চলছে। বাংলাদেশীরাও এর বাইরে নয়। ক্যালগেরি সিটির মেয়র মার্চের পনের তারিখে শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। উত্তর আমেরিকায় করোনা ভাইরাস তখন আতংক সৃষ্টি করে ফেলেছে। তবুও কোনো কোনো স্টেট শিথিলতা দেখিয়েছিল। কিন্তু ক্যালগেরিতে তা হয়নি। তাই ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে ক্যালগেরি তুলনামূলক ভালো আছে। পুরো দেশ হিসেবে কানাডা অনেক দেশের চেয়ে ভালো।

    কানাডার জনসংখ্যা ৩ কোটি ৭৫ লাখের মত। কানাডার সরকারি কোভিড-১৯ তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী এই জনসংখ্যার ১ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখ ৭৫ হাজার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এ পর্যন্ত। অথচ সিএনএন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বরাত দিয়ে বলেছে, আমেরিকায় এখনও পর্যন্ত বিশ লক্ষ করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রকৃত পরীক্ষার সংখ্যা ২৩ লক্ষের বেশী, যা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে পরীক্ষার হার মাত্র ০.৬ শতাংশ। কানাডায় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ২০,৭৪৮ জন, যা মোট পরীক্ষার ৫.৫ শতাংশ। অন্যদিকে আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ধরলে মোট পরীক্ষার ২০ শতাংশই আক্রান্ত।

    কানাডায় এখন পর্যন্ত ৫০৯ জন মারা গেছেন করোনা ভাইরাসের কারণে। যা মোট আক্রান্তের ২.৫ শতাংশ। অন্যদিকে আমেরিকায় মত্যুবরণ করেছেন ১৬ হাজার ৭ শত এগার জন। যা মোট আক্রান্তের ৩.৬ শতাংশ। টরন্টো থেকে মাত্র ৮ ঘন্টার দূরত্বে নিউ ইয়র্কে এই হার ৪.৪ শতাংশ। যে কোন তথ্যেই কানাডায় ক্ষতিগ্রস্তের হার তুলনামূলক কম। অথচ দেশ দুটি পাশাপাশি। কানাডার সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপ এবং প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব কানাডিয়ান নাগরিকদের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অবস্থানে রেখেছে এখনও পর্যন্ত।

    এক্ষেত্রে, সরকারের কিছু করোনা সহায়তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা যায়। থোক বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রদেশগুলো আলাদাভাবে জরুরী বরাদ্দ দিয়েছে। যেমন আলবার্টা ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক হিসেবে ১,১৪৬ ডলার করে দিয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিমাসে ২,০০০ ডলার করে চার মাস প্রদান করবে। সরকার সকল জিএসটি উঠিয়ে নিয়েছে। এগুলি প্রত্যক্ষ সাহায্য সাধারণ জনগণের জন্য। এর বাইরে ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন সাহায্য আছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কানাডার চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোটাই সরকারি। তাই হাসপাতালে গেলে কোন পয়সা দিতে হয় না।

    কানাডার মধ্যে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত ফরাসি ভাষা অধ্যুষিত কুইবেক প্রদেশ। মোট আক্রান্তের অর্ধেকই সেখানে। অন্যদিকে, একমাত্র নুনাভাট টেরিটরিতে কোন করোনা আক্রান্ত নেই। ওরা বাইরের লোক আসা বন্ধ করেছে অনেক আগেই। আর এলাকাটি অতি দূর্গম শীতপ্রধান দেশ। উত্তর মেরুর আবহ সেখানে। এদিকে, আমাদের আলবার্টা তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত। মোট আক্রান্ত ১,৪৫২। মারা গেছেন ৩২ জন। উল্লেখ্য, আলবার্টার মোট জনসংখ্যা ৪৪ লাখের মত। অথচ ৬ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ ইউরোপের লুক্সেমবার্গে আক্রান্ত ৩,১১১ জন আর মারা গেছেন এখনও পর্যন্ত ৫২ জন।
    কানাডার প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন একই কথা বলছেন – হাত ধোও, দুই মিটার দূরে থাক, জরুরী না হলে ঘর থেকে বের হবে না। জনগণ তা শুনছে এবং পালন করছে। কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাও একই সুবিধা পাচ্ছেন। তারাও আছেন মোটামুটি নিরাপদে।

    সর্বশেষ

    আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা ও যুদ্ধাপরাধসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলায় লড়েছেন মাহবুবে আলম

    নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম চলে গেলেন চিরদিনের জন্য। আইন পেশায়...

    স্পেনের বার্সেলোনা কিংস ক্রিকেট ক্লাবের নতুন জার্সি উমুক্ত ও ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

    জাকির হোসেন সুমন, ব্যুরো চিফ ইউরোপ: স্পেনের বার্সেলোনায় স্হানীয় মধুর কেন্টিন রেষ্টুরেন্টে কাসা ই কুইনার স্বত্বাধিকারী ও বার্সেলোনা বিজনেস ক্লাবের সভাপতি রাসেল...

    মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি লিংকন মোল্লার শোক

    নিউজ ডেস্ক: ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী লিংকন মোল্লা অ্যার্টনী জেনারেল এড মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে...

    বিমানের ফ্লাইট বাড়াতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ

    নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ড....

    অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে বিক্রমপুর শোকে মুহ্যমান

    নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমের মৃত্যুর সংবাদ বিক্রমপুর এলাকায় পৌঁছাতে এখানে দল - মত নির্বিশেষে মানুষের আহাজারিতে বলে...